,

ভ্রমন : গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গামাটির পথ.. আমার মন ভোলায় রে..

কবি গান লিখে গেছেন…..
গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গামাটির পথ..
আমার মন ভোলায় রে..
:-: মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন :-:আসলেই রাঙ্গামাটি তে গেলে মন যে ভুলবেই। এবার গন্তব্য এই মন ভোলানোর দেশে। “লোকালয় ছেড়ে, ঔ দূর পাহাড়ে,”গাড় সবুজ রঙের পাহাড়ের ভেতরে। চলে গেলাম রাঙ্গামাটি। ২০ জুলাই শুক্রবার পৌঁছুতে পৌঁছুতে দেড়টা বেজে গেলো। দেরি না করে দুপুরের খাবার সেরে প্রথমে চলে গেলাম ঝুলন্ত ব্রিজ। এই ঝুলন্ত ব্রিজ গুলো আরো কয়েক জায়গায় দেখেছি। সুন্দর। ব্রিজ এর দু পাড়েই সবুজের মিতালি পাহাড়ের সাথে। নদীর মাঝে দারুন লাগে দেখতে। বাংলাদেশে যতগুলো মায়াময় দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা রয়েছে রাঙ্গামাটি তার মধ্যে অন্যতম। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রাকৃতির লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা-মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি। এ জেলা আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ জেলা। নদী ও হ্রদ, উঁচুনিচু পাহাড়ি আকাঁবাকা পথ, সবুজ পাহাড় বেষ্টিত রিকসাবিহীন পর্যটন এলাকা।

রাঙ্গামাটি শহরের প্রধান আকর্ষনই ঝুলন্ত সেতু। সাধারণত রাঙামাটি গিয়ে এই ঝুলন্ত সেতুটি না দেখে কেউ ফেরত আসে না। রাঙামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই লেকের একাংশে ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ব্রিজটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্পট। এ সেতুকে বলা হয় ‘‘ঝুসনড়ষ ড়ভ জধহমধসধঃর”। নয়নাভিরাম বহুরঙা এই ঝুলন্ত সেতুটি দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে গড়ে দিয়েছে হৃদ্দিক সম্পর্ক। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি এনে দেয় ভিন্ন দ্যোতনা। এখানে দাঁড়িয়েই কাপ্তাই হ্রদের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়। কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে যে কেউ বাধ্য। ওপারেই রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। ইচ্ছে হলেই দেখা যাবে আদিবাসী জীবনযাপনের ক্ষয়িষ্ণু চালচিত্র।

 

আসলেই “রাঙ্গামাটি” প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। এখানকার লেক, ঝরনা, বিস্তির্ন নীল আকাশ, পাহাড় সর্বপরি আদিবাসি মানুষের সাধারন সহজ-সরল জীবন সবাইকে বিমহিত করবে। এখানে যেদিকে নজরে পড়বে কেবল পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের পানি। বিশাল কাপ্তাই লেকের পুরোটাই যেন অপার মমতায় দুহাত দিয়ে ধরে রেখেছে পাহাড়গুলি। আকাশের মেঘ আর তার নীলাভ আভা খেলা করে লেকের জলে, দূরে পাহাড়ের আড়ালে হারিয়ে যায়, আবার যেন উকি দিয়ে দেখে নেয়, কেমন আছে লেক। হলফ করে বলা যায়,এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টান সবাইকে টানবেই…।
ব্রিজের ওপারে আদিবাসিরা নানা রকম পসরার মেলা সাজিয়ে বসেছে। কি দারুন সব জিনিস। অনেক কালার ফুল। এদের মনে সম্ভবত অনেক রঙ। সেখানে অবস্থান করলাম আমরা। তাদের সাথে প্রায় ২০/২৫ মিনিট কথা বললাম। তাদের অনুরোধে কিছু চকলেটও খেলাম। ১৫ এপ্রিল তাদের একটি অনুষ্টানে দাওয়াতও পেলাম আমারা। সেখানে আমাদের পরিবেশনে করলাম একটি দেশাত্ববোধক গান ও উপজাতীয় ভাষায় তাদের একটি গানের কিছু অংশ বিশেষ।
এর পর অল্প কিছু দূরে গেলাম, সেখানে রয়েছে চায়ের দোকান। সেখানে গরুর দুধ দিয়ে চা খেলাম। প্রতি কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা। সে চায়ের দোকানের মালিকের বাড়ী ভ্রাম্মনবাড়ীয়া। বহু বছর যাবত রাঙ্গামাটিতেই থাকে। কথা হল তার সাথেও। চায়ের দোকানের কিছদুর পর একটি বড় হস্ত শিল্পের দোকান আর খাওয়ার জায়গা। চমৎকার লাগলো সবকিছু। ফিরে এলাম সেখান থেকে। যাত্রা করলাম সোজা রাঙ্গামাটির অরন্যক রিসোর্টে পথে…
আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট:
রাঙ্গামাটিতে ঘুরার যায়গার অভাব নাই, কিন্তু অনেকেই হয়ত আরণ্যক হলিডে রিসোর্টের কথা জানেনা। দেশের অন্যতম পর্যটন শহর রাঙামাটির বিনোদন জগতে এবার সংযোজন হয়েছে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড হ্যাপী আইল্যান্ড। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩০৫ বিগ্রেড এর উদ্যোগে এই প্রথম পাহাড়ি এই জেলায় স্থাপন করে দৃষ্টিনন্দন হ্যাপী আইল্যান্ড। শহরের ভেদভেদীস্থ সেনাবাহিনীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আরণ্যক এর পাশেই কাপ্তাই হ্রদের মধ্যখানে অবস্থিত ৪৫ শতক জায়গার উপর স্থাপিত এই হ্যাপী আইল্যান্ড বিনোদন কেন্দ্রটি সম্প্রতি উদ্বোধন হয়। এই রিসোর্টে ওয়াটার পার্ক,রাইডার,লেকভিউর সাথে সুইমিং পুলের সুবিধা, বোট রাইড এবং দুর্দান্ত নির্মানশৈলি সবার বিনোদনের জন্য নজর কাড়বে অনায়াসেই। বিশেষ করে শিশুদের খুব ভাল লাগবে।
সম্প্রতি মাত্র দুই বছর সময়ে রাঙামাটি সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তাদেরই করিডরের মধ্যে সুসজ্জিত আরন্যক হলিডে রিসোর্ট চালু করে।
অরণ্যক রিসোট আগত পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ায় আরণ্যকের সাথেই লাগোয়া কাপ্তাই হ্রদের পানির মাঝখানে অবস্থিত নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলিত একটি পাহাড়ে হ্যাপী আইল্যান্ড নামে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড বিনোদন কেন্দ্রটি চালু করেছে রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কতৃপক্ষ।

যেকোন দিন পুরা পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য এই রিসোর্টি অসাধারন। আর যদি সেটা কোন পুর্নিমার রাত হয় তবে তো কথাই নেই। দিনের বেলায় যেমন সুন্দর তেমনি দুর্দান্ত তার রাতের পরিবেশও। এই রিসোর্ট আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও কোন ঝুঁকি নেই। রাঙ্গামাটির নতুন যুক্ত হওয়া এ রিসোর্টটিতে সেদিন পর্যটনে ভরপুর ছিল। একদিকে সেখানকার আর্মিদের পশিক্ষন চলছে অন্যদিকে পর্যটকের ভীর। খুবই চমৎকার লাগছিল তখনকার পরিবেশ। সবাই ছবি তুলছে মনের আনন্দে। সেখানকার ঘাসগুলো যেন সবুজ প্রকৃতির শোভা ছড়াচ্ছে পর্যটকদের। সেনাবাহীনির নিজ হাতে গড়া এ অপরুপ সৌন্দর্যে রিসোটে আসা পর্যটকদের সত্যিই বিমোহিত করেছে।

সবশেষে কবির ভাষায় বলব…
ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সেদেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সেযে আমার জন্মভূমি,
সেযে আমার জন্মভূমি, সেযে আমার জন্মভূমি।

এতো স্নিগ্ধ নদী তাহার, কোথায় এমন ধূম্র পাহাড়,
কোথায় এমন হরিৎ ক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে,
এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায়, বাতাস তাহার দেশে।

হায়রে আমার মন মাতানো দেশ
হায়রে আমার সোনা ফলা মাটি
রূপ দেখে তোর কেন আমার
নয়ন ভরে না
তোরে এত ভালোবাসি তবু
পরান ভরে না।

 

:-: লেখক :-:
মুহাম্মদ বোরহান উদ্দিন
হলদিয়া,রাউজান,চট্টগ্রাম

ভ্রমন সঙ্গী-
এস এম কপিল উদ্দিন,
এস এম আসিফ তানবীর,
মো.জিয়াউল হক।
হলদিযা,রাউজান, চট্টগ্রাম।
ভ্রমন তারিখ:-২০/০৭/২০১৮

মতামত দিন