,

যেভাবে চলছে রাউজানের সাজু আক্তারের জীবন

 

এম জাহাঙ্গীর নেওয়াজ, রাউজানবার্তা :-:
দক্ষিন রাউজান নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কচুখাইন এয়াকুব অলী সওদাগর বাড়ীর সাজু আক্তার (৫০)। তার দুই ছেলে চার মেয়ে স্বামী হারা সংসার। এক ছেলে কাট মিস্ত্রী আর এক ছেলে বেকার। স্বামী হারা সংসারের টানাপোড়নের কারণে বাশের তলই বানানোর কাজ করেন সাজু আকতার। তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকে এখানে বাশের তলই বানানোর কাজ করছি। ১৫ বছর হয় ছেলের বাবা মারাগেছেন ৬ সন্তান নিয়ে কোন রকমে কষ্ট করে সংসার চলে।
মেয়েকে নিয়ে‘সারাদিন তলই বানানোর পর তাবিক্রয় করে যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলেনা। তাই বড় ছেলে কাট মিস্ত্রীর কাজ করে সংসার চালতে তাহাকে সাহায্য করে। গত বছর খানেক আগে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তার মেয়ে ঝিনু আক্তারকে বিয়ে দিয়েছেন। আরো দুই মেয়ে ঘরে অছেন। অভাবের সংসারে সামালদিতেগিয়ে টিক করতে নাপাড়ায় ঘরটি ভেঙ্গে পরে তা দেখে এক মহৎ ব্যাক্তি ঘরটি ঠিক করার উদ্যেগ নিয়ে তাহার সাধ্যমত কাজকরে বর্তমানে ঘরটি অর্থের অভাবে সম্পুন নাহওয়ায় র্পাশবর্তি এক ব্যক্তির ঘরে অশ্রিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
জানাজায়, এক সময়ে নোয়াপাড়া কচুখাইন গ্রামে শতাধিক পরিবার তলইসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরী করা জিনিষ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তখন বাজারে বাঁশ তৈরি এসব পণ্যের চাহিদা থাকায় অনেক মানুষ বাড়িতে গিয়ে অর্ডার দিত। এতে তাদের জীবন-যাপন স্বচ্ছন্দময় ছিল। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা না থাকায় এসব পরিবারে অভাব-অনটন নেমে এসেছে। তারপরও এখানকার অনেক পরিবারের বিরাট একটি অংশ পূর্বপুরুষের পেশাকে এখনো আঁকড়ে পড়ে আছেন।
সাজু আকতার জানান, আগে এলাকায় প্রচুর বাশঁ স্বল্পমূল্যে অনায়াসে পাওয়া যেত। এখন বাশঁ নেই বললেই চলে। দূর-দূরান্ত থেকে কিনে আনতে হয়। দামও অনেক। বর্তমানে এ পেশায় জড়িত আরো অনেকে জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলে বাঁশ সহজলভ্য ছিল। ৪০ থেকে ৫০ টাকায় একটি বাঁশ কেনা যেত। এখন একটির দাম দেড়শ থেকে দুইশ টাকা। কিন্তু সে অনুপাতে তৈরি জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। পাশাপাশি প¬াস্টিকের তৈরি দ্রব্যাদির কারণে এগুলোর চাহিদাও কমে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু তিনি নয় এখানে অনেক পরিবার নিজেদের সংসার চালাতে বাশের তলই বানানোর কাজ করে চলেছে। খুবই গরীব অধুশিত এই এলাকায় গিয়ে দেখাযায় ঘরে বাহিরে বসে মহিলারা যে যার মত করে তলই বানানোর কাজ করছে যেন কথাবলারও ফুসরত নেই তাদের। মোহাম্মদ সোহেল জানান এখানেই অনেক পরিবার সংসারের অভাব সামালদিতে,সেই ভোর থেকে শুরু হয়ে সূর্য ডোবা পর্যন্ত কাজ করে। পাশের বাড়ীর রিজিয়া বেগম জানালেন, সারাদিন তলই বানানোর কাজ করে তা দোকানে দিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়েই চলে সংসার। স্বামী আবু বক্কর অসুস্থ্য তার ও এক ছেলে দুই মেয়ে অভাবের সংসার তাই তলই বানিয়ে তা বিক্রয় করে সংসার চলে ।
সাজু আক্তার এবং রিজিয়া বেগম ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে জানান, বাঁশ দিয়ে একটি তলই তৈরি করতে যে টাকা খরচ পড়ে তার বেশী টাকায় বিক্রি হয় না তাই লাভও কম হয় বলে নিজেদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর দাবি- পরিবার ভিত্তিক সল্প মূল্যে ব্যাংকঋণ প্রদান, এর ব্যবস্থা করে এই শিল্পকর্মে জড়িত পরিবার গুলোকে টিকে রাকা এখনো সম্ভব।

মতামত দিন