রাউজানে নবজাতক চুরির অভিযোগ, উদ্ধার করে মায়ের দুধ পান করালেন ওসি

 

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা থেকে গত তিনদিন আগে একটি নবজাতক চুরির অভিযোগ উঠেছিল। নবজাতকটি এক নিঃসন্তান মা বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে নিয়ে বাসায় নিয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

তিনদিন পর ওই নবজাতকের সন্ধান বের করেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল হারুন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় উদ্ধার করে নবজাতকটি থানায় আনা হয়। শিশুটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। পরবর্তীতে আদালতের ধারস্ত হবে পুলিশ।

আদালত সিদ্ধান্ত দেবে নবজাতকটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের কাছে হস্তান্তর করবে নাকি যিনি নবজাতককে হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন তাকে হস্তান্তর।

এর আগে গত শনিবার ভোরে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ব্রাহ্মণহাট এলাকা থেকে নবজাতক চুরির অভিযোগ উঠে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ভারসাম্যহীন এক নারী বাগোয়ান ইউনিয়নের ব্রাহ্মণহাট এলাকার একটি বাজারে আশ্রয় নেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর প্রসবব্যথা শুরু হয়। রাত ২টায় তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

ভোর ৪টায় বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে নবজাতকটি বাসায় নিয়ে যান বাঁশখালি উপজেলার বাসিন্দা ও রাউজানের ব্রাহ্মণহাটে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী সিএনজি টেক্সী গ্যারেজের মালিক বাবলু দত্তের স্ত্রী শিউলি দত্ত (২৬)। পরে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর মেমন হসপিটালে নিয়ে ভর্তি করান।

এদিকে নবজাতকের মা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী সন্তানের জন্য কাঁদতে থাকেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে লোকমুখে শুনে রাউজান থানাার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন নবজাতকটি উদ্ধারে মাঠে নামেন।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেমন হসপিটাল থেকে উদ্ধার করেন। পরে মায়ের কাছ নিয়ে দুধ পান করান।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, লোকমুখে শুনে আমরা নবজাতক উদ্ধারে মাঠে নামি। পরে আমরা নবজাতকটি কার কাছে আছে কোথায় আছে তা খুজে বের করে জানতে পারি এক নিঃসন্তান মা নবজাতকটি নিয়ে যান। মূলত বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে, নবজাতকের মাকে পাগল দেখে ঐনারী নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। এটি চুরির ঘটনা নয়, সরল বিশ্বাসে তিনি নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *