রাউজান: বন্ধ থাকায় ২হাজার ৫শত পরিবহন শ্রমিকের চলছে দুবির্ষহ জীবন যাপন

 

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

বাস, ট্রাক সহ পরিবহন বন্ধ থাকায় ২হাজার ৫শত পরিবহন শ্রমিকের চলছে দুবির্ষহ জীবন যাপন।

কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কে ২শত ৫৬টি যাত্রীবাহি বাস বন্ধ ১ হাজার পরিবহন শ্রমিক বেকারত্ব জীবন যাপন করছে। লকডাইনের কারনে যাত্রীবাহি বাস ব›দ্ব থাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছে । বাস মালিকেরা ও তাদের আয়ের পথ বন্দ্ব হওয়ায় আর্থিক সংকটে জীবন যাপন করছেন।

করোনার প্রাদুভাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে কিছু পরিবহন শ্রমিক সরকারের দু দপে প্রনোদনার টাকা পায় । এছাড়া ও বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী পেয়েছে ।

গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধি নিষেধ দেওয়ার পর থেকে পরিবহন শ্রমিকেরা কোন সহায়তা পায়নি । চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির আওতায় চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম থেকে রাউজান, চট্টগ্রাম থেকে ফটিকছড়ি তকির হাট, চট্টগ্রাম থেকে মহালছড়ি, রাঙ্গামাটি থেকে বান্দরবান, রাজস্থলী, বাঙ্গালখালী ও রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকা ২শত ৫৬ টি যাত্রীবাহি বাস চলাচল করে।

চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহি বাসে চালক, হেলপারের চাকুরী করে ১ হাজার পরিবহন শ্রমিক যে টাকা আয় করে তা দিয়ে তাদের পরিবার পরিজনের ব্যয়ভার বহন করে। গত এক বৎসর ধরে করোনার প্রার্দুভাবের কারনে দপে দপে যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্দ্ব হয়ে যাওয়ার ১ হাজার পরিবহন শ্রমিকের জীবনে নেমে আসে হতাশা । যাত্রীবাহি বাস ব›দ্ব থাকায় আয়ের পথ বন্দ্ব হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।

গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষনা করার পর চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক সহ চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলার ১৩টি রোডে ২শত ৫৬ টি যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্দ্ব থাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা বেকারত্ব জীবন যাপন করছে। কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে যাত্রীবাহি বাস ও সড়কে চলাচলকারী ট্রাক চলাচল বন্দ্ব হয়ে যাওয়ায় ১ হাজারের বেশী ট্রাক শ্রমিক, রাউজানে বিভিন্ন সড়কে মালামাল বহনকারী জীপ চাদেঁর গাড়ী চলাচল বন্দ্ব থাকায় অর্ধ সহ্রাধিক জীপ শ্রমিকের জীবনে ও নেমে এসেছে হতাশা।

যাত্রীবাহী বাস, মালামাল বহনকারী ট্রাক, জীপ ব›দ্ব থাকায় ২ হাজার ৫শত পরিবহন শ্রমিক বেকারত্ব জীবন যাপন করছেন। পরিবহন শ্রমিকেরা আয়ের পথ ব›দ্ব হয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে র্দুবিসহ জীবন যাপন করছেন।

রাউজানের দক্ষিন হিংগলা শান্তি নগর এলাকার বাস শ্রমিক শাহ আলম বলেন, করোনার প্রার্দুভাবের পর থেকে দু দপে সরকারের দেওয়া প্রনোদনার টাকা পেয়েছি। বর্তমানে যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্দ্ব থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছি।

চট্টগ্রাম বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক কার্যকরি সভাপতি জালাল উদ্দিন চুনচুন বলেন, কঠোর বিধিনিষেধ মেনে সড়কে যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্দ্ব করে দিয়েছি। পরিবহন শ্রমিকেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করলে ও করোনার প্রার্দুভাব থেকে সাধারন মানুষকে রক্ষা করতে সরকারের সিদ্বান্তের সাথে একাত্বতা ঘোষনা করেছে। যাত্রীবাহি বাস চলাচল বন্দ্ব থাকলে ও চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে শত শত সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল করছে।

সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিক্সা বন্দ্ব করতে প্রশাসনের ক্ষনিক অভিযান চালানো হলে ও অভিযানের পর পর আবারো সড়কে চলাচল করছে সিএনজি অটোরিক্সা।

চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ সৈয়দ হোসেন কোম্পানী বলেন, করোনার প্রার্দুভাবের শুরু থেকে সরকারের দেওয়া সিদ্বান্ত মেনে সড়কে যাত্রীবাহি বাস চলাচল করেনি। কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়ার পর সড়কে যাত্রীবাহি বাস চলাচল ব›দ্ব রয়েছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়ক সহ ১৩টি রোডে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মোটর মালিক সমিতির আওতাধিন ২শত ৫৬টি বাস চলাচল করে। যাত্রীবাহি বাস বন্ধ থাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করছেন। বাস মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

করোনার প্রাদুভাবের শুরু থেকে পরিবহন শ্রমিকদের দু দপে সরকার করোনার প্রনোদনা দিয়েছে। বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ও পরিবহন শ্রমিকদের খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে পরিবহন শ্রমিকদের তালিকা নিয়েছে প্রশাসন। এখানো পর্যন্ত কোন সহায়তা পায়নি পরিবহন শ্রমিকেরা।

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, করোনার প্রার্দুভাবের শুরু থেকে পরিবহন শ্রমিকদের প্রত্যেককে ২ হাজার ৫শত টাকা করে দু দপে প্রনোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ও রাউজান উপজেলা ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা অনুসারে পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের প্রতিজনকে ১ হাজার টাকা ৬৯ লাখ টাকা, ও আর এক দপে প্রতিজনকে ৫শত টাকা, ২শত ৫০ টাকা, প্রদান করা হয়েছে।

রাউজান পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে কম মুল্যে খোলা বাজারে চাউল ও আটা বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। কঠোর বিধিনিষেধ চলার কারনে বেকর হয়ে যাওয়া পরিবহন শ্রমিকের তালিকা তৈয়ার করে প্রনোদনার জন্য আবারো পাঠানো হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *