মুনিরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, কাগতিয়া মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সৌধ নির্মানের দাবী মুক্তিযোদ্ধাদের

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা : 

রাউজানের মোহাম্মদপুর গ্রামের অলিখান বাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মুছা খান শহীদ হয়েছিলেন কাগতিয়া মাদ্রাসায় রাজাকার ক্যাম্প থেকে রাজাকার আলবদর বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে।

৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের রাতে মুক্তিযোদ্ধা দল বেঁধে সেখানে গিয়েছিলেন মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ওই রাজাকার ক্যাস্প ধ্বংস করতে। সেই সময় ওই মাদরাসায় অবস্থানে ছিলেন তৎকালিন মাদরাসার অধ্যক্ষ এম.তফজ্জল আহমদ। 

সেদিন মুক্তিযোদ্ধা যখন হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রাজাকারদের টার্গেট করে গুলি ছুঁড়ছিলেন। ওই সময় রাজাকার ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর ছোঁড়া গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন রাউজানে মুক্তিযোদ্ধা মুছা খান। 

মুছার সেই মৃত্যুর দৃশ্যটি মনে পড়লে এখনো দুচোখের পানি ধরে রাখতে পারে না ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধারা। এই আবেগঘন বক্তব্য রাউজানের মুক্তিযোদ্ধাদের। 

সম্প্রতিক কালে কাগতিয়া মুনিরীয়া যুবতবলীগ কমিটির জঙ্গি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রাউজানের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী নিজের আবেগঘন অভিমত ব্যক্ত করেন। 

আবু জাফর চৌধুরীর মত রাউজানের মুক্তিযোদ্ধারা মুনিরীয় যুবতবলীগ কমিটির কর্মকান্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা ওই পরিবারটির মূল উৎপাঠন এখন জরুরী। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন ১৯৭১ সালের রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন এম.তফজ্জল আহমদ। এখন তার পুত্র মুনির উল্লাহ কাগতিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের পদে আসীন হয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে কৌশলে অবস্থান নিয়ে যুবতবলীগের নামে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। 

তিনি তার বাবার পথ অনুসরণ করে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে শান্তির রাউজানকে অশান্ত করার কৌশল নিয়েছিলেন। একাজে তিনি তরিকতের ব্যানারে কৌশলে ব্যবহার করেছেন মুনিরীয়া যুবতবলীগ কমিটিকে। তার এই দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাউজানের বহু ছাত্রযুবক জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তার প্রমান পাওয়া গেছে রাউজান কদলপুর এলাকার মুনিরীয়া যুবতবলীগ কমিটির এক সদস্য হলি আর্টিজন জঙ্গি হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরার পড়ার পর।

শহীদ  বীর মুক্তিযোদ্বা মুছা খানের শহীদ হওয়ার স্থান কাগতিয়া মার্দ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মান করার দাবী জানান রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী । 

রাউজান উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রাউজান পৌরসভার ২য প্যনেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে কাগতিয়ার পীর রাজাকার আলবদর বাহিনীর ক্যম্প করে কাগতিয়া মার্দ্রাসায়। রাজাকার ক্যাম্পে এলাকার লোকজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো। রাজাকার ক্যাম্পে রাজাকারদেও সাথে যুদ্ব করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্বা মুছা খান শহীদ হয় । স্বাধীনতা সংগ্রামের পরবর্তী সময়ে কাগতিয়ার ভন্ড পীর মুনিরুল্ল্যাহ তরিকতের নাম দিয়ে রাউজানে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করতে চায় । মুনিরুল্লাহর নির্দেশ তার অনুসারী মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যরা রাউজানের উত্তর সর্তার ১৪ বৎসরের কিশোর নাঈম উদ্দি কে ২০১০ সালে রাউজানের মুন্সির ঘাটায় প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করে। 

আল্লঅমা শফিউল আলম নেজামী, আল্লামা মহিউদ্দিন, আল্লামা আবু মুছা সিদ্দিকী, আল্লামা ফোরকান উদ্দিন, আল্লামা তরিকুল ইসলাম, আলামা হাফেজ নুরুল আবছার, আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জামেল হক, মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ার, দরিদ্র রিক্সা চালক শামশুল আলম, জীপ চালক আবদুল মন্নান, আল্লামা আবুল হোসেন, মেসবাহ উদ্দিন সহ এলাকার শত শত নিরিহ লোকজনের উপর হামলা করে । মুনিরুল্ল্যাহর অনুসারী সন্ত্রাসীরা রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জায়গা জমি জোর পুর্বক দখল করে নিয়েছে। কাগতিয়ায় আল্লামা আবু বক্কর সিদ্দিকি (রাঃ) এর বিপুল পরিমাণ পৈতৃক সম্পত্তি কাগতিয়া বাজারের মাকের্ট দখল করে নেয়। হজরত আল্লামা আবু বক্কর সিদ্দিকির পৈতৃক সম্পত্তি জোরপুর্বক দখল করে নেওয়ার পর । হজরত আল্লামা আবু বক্কর সিদ্দিকি আদালতে মামলা করে। আদালত হজরত আল্লামা আবু বক্কর সিদ্দিকির পক্ষে মামলার রায় প্রদান করলে ও মুনিরুল্লাহর জবর দখল থেকে ঐ জমি উদ্বার করতে পারেনি ।     

গাউছিয়া কমিটির বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শাখার নেতা আলহাজ্ব আহসান হাবিব চৌধুরী বলেছেন যুবতবলীগের জঙ্গিরা সুন্নিয়াত ভিত্তিক বিভিন্ন তরিকতের সমর্থক অর্ধশতাধিক আলেম ওলেমার উপর হামলা করে আহত করেছে। কারো কারো পায়ের রগ কেটে দিয়ে জীবনের তরে পঙ্গু করে দিয়েছে। তাদের অপরাধ ছিল মুনিরীয়ার জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলা। তার অভিযোগ মুনির উল্লাহ নিজকে একমাত্র পীর হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে অন্যদের কন্ঠ স্তব্দ করার লক্ষ্য নিয়ে তার নামে তরিকতের নাম দিয়ে এলাকার ছাত্র যুবকদের সংগঠিত করছে। তাদেরকে ধর্মীয় জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে নিজের একত্বতাবাদ সৃষ্টি সহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে দমানোর হাতিয়ার বানিয়েছেন।নিউজ ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:

শফিউল আলম, প্রধান সম্পাদক

সাহেদুর রহমান মোরশেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক

মোবাইল- ০১৮১৮-১১৭৪৭০

ইমেইল : raozan786@gmail.com

raozanbarta24. com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*