রাউজানে পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গৃহিনীকে মারধর ও শ্লীলতাহানীর রটনা , অভিযোগকারীর স্বামী অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা : 

রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা মনি ড্রাইভারের বাড়ীর মৃত মনি ড্রইভারের পুত্র সনদ বড়ুয়া চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে বাস সড়কে যাত্রীবাহি বাসের চালক । সনদ বড়ুয়া গত ২০১২ সালে জিবিকার তাগিদে ওমানে পাড়ি জমায় । ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওমানে ছিলেন। 

ওমানে থাকা অবস্থায় সনদ বড়ুয়া স্ত্রী নিলু বড়ুয়া সনদ বড়ুয়া তৈৃক সম্পত্তি মামলা দেখাশুনা করার কাজে চট্টগ্রাম নগরীর আদালতে যাতায়াত করার সময়ে চট্টগ্রাম নগরীর জহুর হকার মার্কেটের প্যান্ট হাউসের মালিক চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ছদহা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আফজল নগর মুহুরী পাড়া  এলাকার ফজরের বাড়ীর মৃত আসহাব উদ্দিনের পুত্র একে এম মোরশেদ আলমের সাথে পরিচয় হয় । 

সনদ বড়ুয়া

মোরশেদ আলমের সাথে পরিচয়ের সুত্র ধরে নিলু বড়য়া তার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে । সনদ বড়ুয়া ওমান থেকে দেশে এসে তার কন্যা অর্পিতা বড়ুয়াকে বিবাহ দেয় । বিয়ে দেওয়ার সময়ে সনদ বড়য়া এনজি ও থেকে  চার লাখ টাকা ঋন নেয় । ঋনের টাকা পরিশোধ করার জন্য সনদ বড়ুয়া তার ২৪ শতক জমি ১১লাখ টাকা দিয়ে বিক্রয় করে দেয় । জমি বিক্রয় করা ১১ লাখ টাকা থেকে চারলাখ টাকা এনজিও এর ঋনের টাকা পরিশেদ করে অবশিষ্ট ৭ লাখ টাকা সনদ বড়ুয়া তার স্ত্রী নিলু বড়ুয়ার কাছে রাখে । 

সনদ বড়ুয়ার দেওয়া ৭লাখ টাকা তার স্ত্রী নিলু বড়ুয়া মোরশেদ আলকে দিয়ে দেয়। মোরশেদ আলম মুসলিম হলেও নিলু বড়ুয়া মোরশেদকে বৌদ্ব ধর্মীয় অনুসারী প্রচার করে এলাকার মানুষের কাছে তার বাড়ীতে এনে রাখে। 

এঘটনার পর সনদ বড়ুয়া মোরশেদ আলমের সাথে তার স্ত্রী নিলু বড়ুয়ার পরকিয়া টের পেয়ে নিলু বড়ুয়ার কাছে রাখা টাকার হিসাব চাইলে ঐ টাকার হিসাব না দিয়ে চলচাতুরী করতে থাকে । পরবর্তী নিলু বড়ুয়া ৭ লাখ টাকার মধ্যে ২লাখ টাকা মোরশেদ আলমকে ধার দিয়েছে বলে স্বীকার করে। 

সনদ বড়পয়া স্ত্রী নিলু বড়পয়াকে মোরশেদ আলমের সাথে পরকিয়া করা বন্ধের জন্য চাপ দিলে নিলু বড়ূয়া সনদ বড়ুয়ার সাখে প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ করে সনদ বড়ুয়া । 

চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কে বাস চালিয়ে রাতে ঘরে সনদ বড়ুয়াকে ঘরে প্রবেশ করতে দেয়না নিলু বড়ুয়া। সনদ বড়ুয়া অভিযাগ করে আরো বলেন, এ ঘটনার পর আমি সমাজের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করি। সমাজের লোকজন সহ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলী কয়েকদপে বৈঠক করে নিলু বড়ুয়ার সাথে আমার বিরোধ নিরসন করে দেয়। 

পরবর্তী আমি বাদী হয়ে মোরশেদ আলমের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করি । মামলা নং- সি, আর, ২০৮৪/১৮ । মামলাটি আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিবিআই) এর উপ পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন। গত ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর (পিবিআই) এর উপ পুলিশ পরিদর্শক জসিমউদ্দিন মামলটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 

অপরদিকে মোরশেদ আলম সনদ বড়প য়ার কাছ থেকে উল্টো ২ লাখ টাকা পাবে দাবী করে পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে মোরশেদ আলমকে গত ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর রাত দশটার সময়ে  চট্টগ্রাম নগরীর জহুর মাকের্টের সামনে থেকে অপহরন করে নিয়ে গিয়ে নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে সি,ডি এ মার্কেটের ৩তলায় নিয়ে গিয়ে মোরশেদ আলম থেকে ষ্টাম্পে জোরপুবর্ক দস্তখত নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ  চট্টগ্রাম মহনগর অতিরিক্ত জেলা ম্যজিষ্ট্রেটের আদালতে মামলা করে।মিচ  মামলা নং- ২৬৩২/২০১৮ । পরবর্ত মামলটি আদালত খরিজ করে দেয় বলে অভিযোগ করে সনদ বড়ুয়া । 

সনদ বড়ুয়া আরো অভিযোগ করেন স্ত্রী নিলু রড়ুয়ার প্রেমিক মোরশেদ আলমের আদালতে দায়ের করা মামলায় নিলু বড়ূযাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে । 

 রাউজান পৌরসভার কাউন্সিলর আলমগীর আলী বলেন, গত ১৯ জুন বুধবার দিবাগত রাতে সনদ বড়ুয়া  বাড়ীতে গেলে স্ত্রী নিলু বড়ুয়া ও তার ছেলে সৌমেন বড়ুয়া তাকে তার ঘওে প্রবেশ করতে দেয়নি । এসময়ে সমাজের লোকজন সহ আমাকে ডেকে নিয়ে গেলে নিলু বড়ুয়াকে ঘরের দরজা খুলতে বললে নিলু বড়ুয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে । এসময়ে ঘরের বাইর থেকে আমি আমার পরিচয় দিলে ঘরের দরজা খুলে দেয় আমি সনদ বড়ুয়াকে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে এলাকার লোকজন সহ চলে আসি। 

ঐদিন রাতে সনদ বড়ুয়াকে ঘরের মধ্যে তার স্ত্রী নিলু বড়ুয়া ও পুত্র সৌমেন বড়ুয়া বেদম প্রহার করে ঘরের মধ্যে সনদ বড়ুয়াকে রেখে ঘরের বাইরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে নিলু বড়ুয়া ও তার পুত্র্র সৌমেন বড়ুয়া চলে যায় বলে জানান নিলু বড়ূযার স্বামী সনদ বড়ুয়া । ঘরের ভেতর থেকে সনদ বড়ুয়া শোর চিৎকার করলে তাকে এলাকার লোকজন মারাত্বক আহত অবস্থায় উদ্বার করে হাসাপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করে।  

এদিকে এঘটনাকে পুজি করে সামজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলী নিলু বড়ুয়াকে মারধর করে ও তার শ্লীলতা হানির চেষ্টা করে বলে পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলীর বিরুদ্ধে একটি মহল অপ্রচার চালিয়ে আসছে।

নিলু বড়ূয়ার স্বামী সনদ বড়ুয়া দেওয়া বক্তব্য এলাকার লোকজন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছেড়ে দেয়। 

 ২ জুলাই মঙ্গলবার সকালে রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা সনদ বড়পয়ার বাড়ীতে গিয়ে তার স্ত্রী নিলু বড়ুয়াকে পাওয়া যায়নি । নিলু বড়ূযার স্বামী সনদ বড়ুয়া দেওয়া তথ্য মতে এই প্রতিবেদন তৈয়ারী করা হয় ।  

 নিউজ ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন:

শফিউল আলম, প্রধান সম্পাদক

সাহেদুর রহমান মোরশেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক

মোবাইল- ০১৮১৮-১১৭৪৭০

ইমেইল : raozan786@gmail.com

raozanbarta24. com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*