হালদার চরের জমিতে চাষাবাদকারী কৃষকদের হয়রানী করার অভিযোগ

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

চট্টগ্রামের  রাউজান উপজেলার ১৩ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন, বোয়ালখালী উপজেলার কধুর খীল সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে হালদা নদীর মোহনায় অবস্থিত নোয়াপাড়া কধুর খীল মৌজার মধে অবস্থিত হালদার চর। 

১শত ৩০ একর আয়তনের হালদার চরের জমিতে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন, বোয়ালখালী উপজেলার কধুর খীল এলাকার ১শত ৬০ পরিবার ধান, শীতকালিন মৌসুমে তরমুজ, বাঙ্গি সব্জির চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। 

রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকার বাসিন্দ্বা আহম্মদ হোসেন বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল এলাকার বশর কমান্ডার অভিযোগ করে বলেন, হালদার চরের জমি চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ ১৯৬০ সালে ইজারা নেয়। হালদার চরের জমি চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা নেওয়ার পর ঐ জমিতে স্থাপনা করে তোলে সড়ক নির্মান করে। 

পরে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের বিরুদ্বে রাউজান বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দ্বারা মামলা করায় ঐ জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে । রাউজান বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দ্বারা ঐ জমি একসনা ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে । 

চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার কালাম গেইটের আল নাজিম সেলভেজ ক্যরিয়ার এর মালিক মোহাম্মদ নাজিম চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সংরক্ষিত নোয়াপাড়া কধুর খীল মৌজার হালদা চরের ১২ একর জমি ইজারা নেয়। মোহাম্মদ নাজিম হালদা চরের চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের ১২ একর জমি ইজারা নিয়ে  ইজারা নেওয়া জমির বাইরে কৃষকের চাষাবাদের জমি জোরপুর্বক দখল করে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ নাজিমকে ইজারা দেওয়ার সময়ে জমি খনন করা যাবেনা, ইজারা দেওয়া জমির সীমনার বাইরে জমি দখল করা যাবেনা । ইজরাদার নাজিম ও তার লোকজন ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে হালদার চরের এসকেভাটার দিয়ে মাটি খনন করে পুকুর তৈয়ারী করে মাছের চাষ ও ইজারা দেওয়া জমির সীমানার বাইরে বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে নিয়েছে।

 হালদার চরের জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ কারী রাউজান বোয়ালখালী এলাকার শতাধিক পরিবারের সদস্যরা ইজারাদার নাজিমের জোরর্পুবক দখল করে জমিতে চাষাবাদ করার প্রস্তুতি নিলে তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগ করেন রাউজান বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দ্বারা । 

এলাকার বাসিন্ধারা আরো অভিযোগ করেন হালদা চরের জমি এক সময়ে রাউজান বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দ্বাদের মালিকানাধিন ছিল। ঐজমি সরকারী খাস জমি হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসি জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করে। উচ্চ আদালত থেকে এলাকাবাসির পক্ষে রায় দেয়।  

এব্যাপারে গত ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন এলাকার বাসিন্দ্বা ওসমান গনি সহ এলাকার লোকজন ইজারাদারের বিরুদ্বে চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ করে বলে জানান এলাকার লোকজন । 

চট্টগ্রম বন্দর কতৃপক্ষের কাছ থেকে চরের জমির ইজারাদার মোহাম্মদ নাজিম বাদী হয়ে রাউজান ও বোয়ালখালী এলাকার ১৫জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিবাদী করে আদালতে গত ৭ জুলাই মামলা করে। মামলার আর্জিতে তার কাছ থেকে চাদাঁ দাবী করে চাদার টাকা না দেওয়ায় ইজারা নেওয়া জমিতে মৎস প্রকল্পের কর্মচারীদের মারধর করে অভিয়োগ করে। ইজারাদার মোহাম্মদ নাজিমের আদালতে দায়ের করা সি আর  মামলা নং-১৬১/২০১৯ইংরেজী রাউজান। মামলাটি পি, আই,বি কে তদন্ত করার দায়িত্ব প্রদান করেন বিঞ্জ আদালত। 

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন হালদা নদীর মোহনায় কর্ণফুলী নদীর তীরে হালদার চর সরকারী খাসঁ জমি । সরকারী খাসঁ জমি চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ সরকার থেকে ইজারা নিয়েছে ।বর্তমানে ঐ জায়গার মালিক চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*