রাউজানে কীটনাশক ব্যবহার না করে মাল্টা চাষে সাফল্য

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

রাউজানের পুর্ব রাউজান জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দ্বা দুবাই ফেরৎ প্রবাসী প্রেমতোষ বড়ুয়া পুর্ব রাউজান জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলকায় ২ একর জমিতে ৬শত মাল্টা ফলের চারা, পেপেঁ, লিচু, অমপ্রলী, হাড়িভাঙ্গা জাতের আম গাছের বাগান গড়ে তোলেছে।

প্রবাস ফেরৎ প্রেমতোষ বড়ুয়া জানান দুই একর জমিতে ফলের বাগান গড়তে তার খরচ হয়েছে ৬লাখ টাকা। বৌদ্ব সাবির্ক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি থেকে দেড়লাখ টাকা ঋন নিতে হয়েছে ফলের বাগান গড়তে প্রেমতোষ বড়ুয়ার। ঋণের টাকা ফেরৎ দিয়ে প্রেমতোষ বড়ুয়া তার স্ত্রী সিনিগ্ধা বড়ুয়া সহ প্রতিদিন ফলের বাগানের পরিচর্যা করছে। প্রেমতোষ বড়ুয়া এগ্রোভেট ফার্ম নাম দিয়েছে তার ফলের বাগানের।

প্রেমতোষ বড়ুয়া বলেন ১৯৮৮ সালে এইস এইস সি পাশ করে। ১৯৯০ সালে দুবাইতে জিবিকার তাগিদে পাড়ি জমায়। ২০০৯ সালে দুবাই থেকে দেশে এসে তার জমিতে চাষাবাদ করে। বাড়ীর অদুরে ফসলী জমিতে গোলাপ ফুলের বাগান গড়ে তোলে। পরে গোলপ ফুলের বাগানের চাষবাদ ছেড়ে দিয়ে চাষাবাদের পাশাপশি ফসলী জমিতে বাউকুল বাগান ও ডেইরী ফার্ম গড়ে তোলে। অসুস্থতার কারনে বাউকুল ও ডেইরী ফার্ম ছেড়ে দিয়ে গত দেড় বৎসর পুর্বে রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পরামর্শে দুই একর জমিতে মাল্টা ফলের বাগান গড়ে তোলে। প্রেমতোষ বড়ুয়ার মাল্টা গাছে মাল্টার ফলন এসেছে। এক একর পরিমান টিলাভুমিতে গড়ে তোলা মাল্টা বাগানের গাছ থেকে মাল্টা ছিড়ে সকল মাল্টা ফল এলাকার লোকজন ও প্রতিবেশী আত্বিয় স্বজনদের খাওয়ার জন্য বিতরন করেছে প্রেমতোষ বড়ূয়া।

প্রেমতোষ বড়ুয়া জানান তার মাল্টা গাছের বাগানে কোন ধরনের কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার করেনা। ফেরোমন ফাদঁ বসিয়ে পোকা মাকড় দমন করে মাল্টা উৎপাদন করছে।

মাল্টা বাগান পরিদর্শন কালে দেখা যায় বাগানের সবর্ত্র ফোরোমন ফাদঁ বসিয়ে পোকা মাকড় দশন করা হচ্ছে। দুই একর মাল্টা ফলের বাগানের মাল্টা গাছ রোপন করার এক বৎসর এক মাস পর মাল্টা গাছে প্রথমবারের মতো মাল্টা ফলের ফলন এসেছে। এবার ফলন কম হলে ও আগামী বৎসর ৬০ হাজার মাল্টা উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা করছেন প্রেমতোষ বড়ুয়া, পরের বৎসর ১লাখ ৬০ হাজার টি মল্টা ফল উৎপাদন করা যাবে বলে প্রেমতোষ বড়ুয়া আশা করছেন। প্রতি কেজি মাল্টা ফল ৯০ টাকা করে চট্টগ্রাম নগরীর ফলের আড়তে নিয়ে বিক্রয় করবে বলে জানান।

প্রেমতোষ বড়ুয়ার মাল্টা ফলের বাগানের মধ্যে মাল্ট ফল ছাড়া ও নাগমনি কমলা, লিচু, আম, পেপেঁ, লেবুর চারা ও রোপন করা হয়েছে। কশলঅর গাছে ও লেবু গাছে, পেপেঁ গাছের মধ্যে ফলন এসেছে প্রচুর পরিমান। মাল্টা প্রচুর মিষ্টি ও সুস্বাদ্বু বলে এলারকার লোকজন জানান।

প্রেমতোষ বড়ুয়া জানান মাল্টা বাগান গড়ে তোলার জন্য রাউজান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সকল প্রকার সহায়তা প্রদান ও একটি সেচ পাম্প ও পাইপ, একটি হ্যান্ড পাওয়ার পাম্প সহ পাইপ দিয়েছে। প্রেমতোষ বড়ুয়ার এ্ক কন্যা সন্তান হৈমন্তি বড়ুয়াকে বিবাহ দিয়েছে। দুই ছেলে সন্তান সরৎ বড়ুয়া রাউজান সুরেশ বিদ্যায়তনের দশম শ্রেণীতে শ্রাবণ বড়ুয়া একই বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে লেখপাড়া করছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*