রাউজানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা : 

রাউজানের উরকিরচর মোহাম্মদিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মার্দ্রাসার অধ্যক্ষ ও সচিব মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজার বিরুদ্ধে র্দুনীতি, অর্থ আত্ব্র্সাৎ করার অভিযোগ করে তার বিরুদ্বে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে আবেদন করেছেন মার্দ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম ইউছুফ। ((((বিজ্ঞপ্তি- মোবাইলের যে কোন সমস্যা, মেরামত/ মোবাইল ফ্লাশ/ ভার্সন আপডেট / কান্ট্রি লক, জিমেইল লক, এমআই লক, আই ফোনের আইক্লাউড লক সহ যেকোন লক খুলতে যোগাযোগ করুন- ১। রহমানিয়া এন্টারপ্রাইজ সেইলস্ & সার্ভিসিং, ভারতশ্বরী প্লাজা, পথেরহাট, নোয়াপাড়া, রাউজান, চট্টগ্রাম।মোবাইল-01719-117470 ))) ২. মোবাইল থেরাপী, শাহ আমানত সিটি কর্পোরেশন মার্কেট, দোকান নং-৬৯, ২য় তলা, জুবলী রোড, আমতল, চট্টগ্রাম। মোবাইল-01719-117470 )))

র্দুনীতি দমন কমিশন অধ্যক্ষ হাসান রেজার বিরুদ্বে প্রদত্ত অভিযোগ তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য অভিযাগটি রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেনায়েদ কবির সোহাগের কাছে প্রেরণ করেছেন। রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ অভিযোগ তদন্ত করার জন্য দয়িত্ব দিয়েছেন রাউজান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদ তালুকদারকে । 

অভিযোগ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন রাউজান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদ তালুকদার । মার্দ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম ইউছুপ রাউজানের উরকিরচর মোহাম্মদিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মার্দ্রাসার অধ্যক্ষ ও সচিব মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজার  বিরুদ্বে র্দুনীতি, অর্থ আত্ব্র্সাৎ করার অভিযোগ করে, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজা মার্দ্রসায় কোন ক্লাস করেনা । একাডেমিক ও প্রশাসনিক কোন বিষয়ে মার্দ্রাসার খোজ খবর রাখেনা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাহফিলে গেলে দুই একদিন পর মার্দ্রাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে  চলে যায় । মার্দ্রসায় এসে অফিসে বসে কোন স্থানে মাহফিল হবে ও ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ করে চলে যায় ।   মার্দ্রাসা পরিচালনা কমিটির  কোন সিদ্¦ান্ত ব্যতিত মাওলানা হাছার রেজা তার পরিবর্তে ক্লাস নেওয়ার জন্য অন্য একজন মাওলানা রেখে প্রতিষ্টান থেকে তাকে আলাদা ভাবে বেতনের টাকা পরিশোধ করেন । মার্দ্রাসার পাশর্^বর্তী মার্দ্রসার জায়গায় গরুর খামার ও মাছের চাষ করে তার গরুর খামার ও মাছ চাষে কাজ করা শ্রমিককে বিনা পয়সায় বৎসরের পর বৎসর এতিমখানার শিক্ষার্থীদের খাওয়া খাওয়ানো হয় । গরুর খামারের গরুকে এতিমখানার রান্নার জন্য বসানো চুলা থেকে ঝাউভাত রান্না করে খাওয়ানো হয় । খামারের বিদ্যুৎ বিলের টাকা খামারের ৪জন কর্মচারীর মাসিক বেতনের টাকা এতিমখানার ফান্ড থেকে পরিশোধ করা হয়েছে । মার্দ্রাসা এবং এতিমখানার পরিচালিত কিন্ডার গার্ঢেন স্কুল হতে অধ্যক্ষ নিযমিত যে টাকা পেতো । ঐ টাকার মধ্যে সমুদয় টাকা ক্যাশে জমা করেননি । অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজার ভাই হোসেন রেজা বিনা ভাড়ায় মার্দ্রসার একটি কক্ষ বৎসরের পর বৎসর ব্যবহার করে আসছে। হোসেন রেজা মার্দ্রাসা ভবনের কক্ষে বসে অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজার মাহফিলের দাওয়াত সংক্রান্ত বিষয়, নিকাহ নামা রেজিষ্ট্রারের কাজ, খামারের কাজ পরিচালনা করে আসছে। মার্দ্রাসার পাশে এতিমখানার দায়িত্ব পালনকালে সরকার কতৃক প্রদত্ত ক্যপিটেশন ফান্ড থেকে গ্রান্ডের টাকা ব্যাংকে জমা হওয়ার পর অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজা তার ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফর করে নিতো। বিষযটি জানার পর থেকে ২০১৫ সালে ৩লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেয় অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজা । এরপর থেকে অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজাকে এতিমখানার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে । রাউজান ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাহফিলে গেলে মার্দ্রসা ও এতিমখানারা নামে মাহফিলে উপস্থিত সকলের কাছ থেকে চাদাঁ আদায় করে কিছু পরিমাণ চাদাঁর টাকা ক্যশবুকে জমা দেখিয়ে বিভিন্ন খাতে লেনদেন দেখাইয়া, খরচের ভাউচার  ক্যাশ বুকে তুলে দিতো । মাহফিল থেকে মার্দ্রাসা ও এতিমখানার নামে উত্তোলন করা চাদাঁর টাকা নগদ জমা দেয়নি কোন সময়ে । ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত  আভ্যন্তরিন সকল প্রকার আয় ব্যয়ের হিসাব আভ্যন্তরিন অডিট কমিটির মাদ্যমে যাচাই বাচঅর করা হয় । গত ২০১৬ সালের অডিট কমিটি একটি প্রতিবেদন জমা দেয় । প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাদাঁর টাকা হতে ৪লাখ ৮৮ হাজার টাকা ক্যাশ বুকে তোলা হয়নি। একই খরচের ১লাখ ৭৭ হাজার টাকার বিল দুইবার তোলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্দ্রসার  ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৪শত ৮১ টাকা অধ্যক্ষ মাওলনা মোহাম্মদ হাছান রেজার কাছে পাওনা টাকা মার্দ্রাসার ফান্ডে ফেরৎ দিতে অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হাছান রেজাকে অনুরোধ জানানো হলে ও টাকা ফেরৎ দেয়নি। 

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের বিরুদ্বে আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির ব্যাপারে মার্দ্রসা বোর্ডের ২৯/০৯/২০১৬ ইংরেজী স্বারক নং- ১৪৫/১৯৪২ এর প্রেরিত অভিয়োগের তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ২৪/০৫/২০১৭ ইংরেজি তারিখে স্বারক নং ৬২৯ মার্দ্রসা শিক্ষা বোর্ডে জমা প্রেরন করেছেন । রাউজান উরকিরচর মোহাম্মদিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া মার্দ্রসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজার বিরুদ্বে মার্দ্রসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম ইউছুপ মার্দ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবারে আর্থিক ও প্রশাসনিক র্দুনীতি অনিয়মের বিরুদ্বে লিখিত ভাবে আবেদন করে । 

এ ব্যাপারে রাউজান উরকিরচর মোহাম্মদিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া মার্দ্রসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্বে মার্দ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এস এম ইউছুপের প্রদত্ত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট । আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মার্দ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সহ তার সহযোগিরা আমার বিরুদ্বে মিথা বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। মার্দ্রাসার অফিস কক্ষের আলমিরা ভেঙ্গে মার্দ্রসার হিসাব নিকাশের কাগজ সহ কিছু দলিল নিয়ে গেছে দুবৃত্তরা। এই ঘটনার পর আমি রাউজান থানায় জিডি করেছি। র্দুনীতি দমন কমিশনে দেওয়া আমার বিরুদ্বে অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে তদন্তকারী রাউজান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদ তালুকদারকে আমার কাগজ পত্র জমা দিয়েছি ।মার্দ্রসা পরিচঅলনা কমিটির সভাপকি আলহাজ¦ এস এম ইউছুপ ও মার্দ্রাসা ভবনের একটি কক্ষ তার অফিস হিসাবে ব্যবহার করছে । 

এ ব্যাপারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন রাউজান উরকিরচর মোহাম্মদিয়া গাউছিয়া সুন্নিয়া মার্দ্রসার অধ্যক্ষ মাওলানা হাছান রেজার বিরুদ্বে র্দুনীত দমন কমিশনে দেওয়া অভিযোগ আমার কাছে পাঠানো হয়েছে । অভিযোগ তদন্তের জন্য রাউজান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৌহিদ তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*