আত্মহত্যা থেকে রক্ষা পাওয়া রাউজানের সেই শিক্ষার্থী মারা গেলেন

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

বখাটের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার অপমানে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকারী স্কুল শিক্ষার্থী রুনা আকতার ৬মাস মৃত্যুর সাথে যুদ্ব করে মারা গেলেন। চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রুনা আকতার (১৪) এবারের এস এস সি পরিক্ষার্থী ছিল। তার সহপাঠিরা এস এস সি পরিক্ষা দেওয়ার জন্য টেষ্ট পরিক্ষা দিয়ে এস এস সি পরিক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্কুল শিক্ষার্থী রুনা আকতার বখাটের হাতে লাঞ্চিত হয়ে অপমানে ঘরের মধ্যে গলায় রশি ঝুলিয়ে আত্মহত্য করার প্রচেষ্টা চালায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে ফাসিঁর রশি থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রানে রক্ষা করলে ও রুনা আকতার হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে বাকরুদ্ব হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। রুনার পিতা আবদুল মন্নান ও তার পরিবারের সদস্যরা রুনা আকতারকে বাচাঁনের জন্য চিকিৎসা করে। স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার অপমানে অসুস্থ অবস্থায় ঘরের মধ্যে ঘটনার পর থেকে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সাথে যুদ্ব করে।

৬ নভেম্বর বুধবার ভোর ৬ টার সময়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার। স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের আশা ছিল এবার এস এস সি পরিক্ষা দেবে। রুনার পিতা আবদুল মন্নান ও মাতা নয়ন বেগমের স্বপ্ন ছিল তাদের মেয়ে এসে এস সি পরিক্ষা দিয়ে এস এস সি পরিক্ষায় পাশ করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে লেখাপড়া করিয়ে রুনাকে একজন আর্দশ নারী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্টিত করবে। স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার ও তার পরিবারের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দেয়নি এলাকার বখাটেরা ।

রাউজান উপজেলার ৩ নং চিকদাইর ইউনিয়নের চিকদাইর ওয়ার্ডের মাওলানা বদিউর রহমানের বাড়ীর আবদুল মন্নানের কন্যা রুনা আকতার (১৪) চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী তার রোল নং -৭৩ । পটিয়া শিকল বাহা জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান বাড়ীর কাজী নজরুল ইসলামের পুত্র আরিফুল ইসলাম অভির সাথে গত ৩ এপ্রিল চিকদাইর নেওয়াজ গাজী (রাঃ) এর ওরশ উপলক্ষে মেলায় বেড়াতে যায়। আরিফুল ইসলাম অভির সাথে স্কুল ছাত্রী রুনার সর্ম্পক গড়ে উঠে।

স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের পিতার দায়ের করা মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল বিকাল সাড়ে পাচঁটার সময়ে চিকদাইর নেওয়াজ গাজী (রাঃ) এর ওরশ উপলক্ষে মেলায় স্কুল ছাত্রী রুনাকে নিয়ে অভি বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী নুরুল আমিনের পুত্র মঞ্জুর হোসেন(২২), কবির আহম্মদের পুত্র কফিল উদ্দিন(২০) মোঃ বশির পুত্র হেলাল (২০) ফয়েজ আলীর পুত্র বেলাল (১৯) সহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজন রুনা আকতারকে উতক্ত করে। পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে, রুনাকে অপহরন করার চেষ্টা করে। ঐ সময়ে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকের হোসেন রুনা আকতারকে উদ্বার করে।

রুনাকে উদ্বার করার পর শিক্ষক জাকের হোসেন রুনার মাতা নয়ন বেগমেকে সংবাদ দিলে রুনার মাতা নয়ন বেগম, প্রতিবেশী সাকিব, ও আত্বিয়রা এসে শিক্ষক জাকের হোসেনের কাছ থেকে রুনা আকতারকে ঘরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর ঐদিন রাতে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার ঘরের মধ্যে গলায় রশি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টাকালে পরিবারের লোকজন দেখে ফাসিঁর রশি থেকে নামিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় রুনা আকতারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারী বিভাগের ২৮ নং শয্যায় গত ৯ মে পর্যন্ত সময়ে রুনা চিকিৎসাধীন ছিল। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করে ৬ নভেম্বর বুধবার ভোর ৬ টার সময়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ।

এ ঘটনার ব্যাপারে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের পিতা আবদুল মন্নান রাউজান থানায় মামলা করার জন্য গেলে ডিউটি অফিসার আবদুল মন্নানকে আদালতে মামলা করার পরার্মশ দিয়ে মামলা নেয়নি বলে আবদুল মন্নান অভিযোগ করেন। পরবর্তী গত ১৫ এপ্রিল ঘটনার ব্যাপারে চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে অভিযাগ করেন। চিকদাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী আবদুল মন্নানকে ঘটনার ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে জানান স্কুল ছাত্রী রুনার পিতা আবদুল মন্নান।

পরবর্তী ঘটনার বিষয়ে স্কুল ছাত্রী আবদুল মন্নান বাদী হয়ে প্রতিবেশী নুরুল আমিনের পুত্র মঞ্জুর হোসেন(২২), কবির আহম্মদের পুত্র কফিল উদ্দিন(২০) মোঃ বশির পুত্র হেলাল (২০) ঘটনার সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করে। বাদীর এজাহার নামীয় আসামী ফয়েজ আলীর পুত্র বেলাল (১৯) সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে চট্টগ্রাম নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইকে প্রতিবেদন দেওয়ার নিদের্শ প্রদান করেন । স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারকে নিয়ে মেলায় বেড়াতে যাওয়া আরিফুল ইসলাম অভিকে অব্যাহতি দেয় । আরিফুল ইসলাম অভিকে মামলায় স্বাক্ষী করে আসামী বেলালকে অব্যাহতি দিয়ে করা পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পি, বি, আই) চট্টগ্রাম এর সাব ইনেস্পক্টর মোহাম্মদ কামাল আব্বাস মামলাটি তদন্ত করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন্ দাখিল করেন । তদন্ত প্রতিবেদনে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারকে শ্লীলতা হানি করার ঘটনায় প্রতিবেশী নুরুল আমিনের পুত্র মঞ্জুর হোসেন(২২), কবির আহম্মদের পুত্র কফিল উদ্দিন(২০) বাশির পুত্র হেলাল ঘটনার সাথে জড়িত বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ।

ঘটনার ব্যাপারে চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকের হোসেন জানান গত ৩ এপ্রিল সন্দ্ব্যায় আমার বাড়ীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্টান চলাকালে আমি বাড়ীর মেয়েদের জন্য অনুষ্টান উপলক্ষে রান্না করা খাবার বিতরন করি। এসময়ে বেরাকা পড়া একটি মেয়ে বাড়ীর পাশ্ববর্তী রাজারাম খালের পাড় দিয়ে একলা হাটার সময়ে আমি মেয়েটিকে ডেকে এনে তার পরিচয় জানতে চাই, মেয়েটি আমাকে তার বাড়ী হাটহাজারী এলাকায় বলে । এসময়ে এলাকার লোকজন বলেন, মেয়েটি চিকদাইর শাহাদাৎ ফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী রুনা আকতার ও তার বাড়ী চিকদাইর মাওলানা বদিউর রহমানের বাড়ীতে তার পিতার নাম আবদুল মন্নান। মেয়েটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার মাতা নয়ন বেগমে ফোন করে তার মেয়ে রুনা আকতারকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে তার মাতা নয়ন বেগম ও তার স্বজনেরা এসে রুনা আকতারকে নিয়ে যায়।

এলাকার লোকজন জানান রুনা আকতারকে উদ্বার করে নিয়ে যাওয়ার পর রাতে রুনা আকতারের পিতা আবদুল মন্নান রুনা আকতারকে বেদমভাবে প্রহার করে। রুনা আকতারকে বেদমভাবে প্রহার করার পর অপমানে রুনা আকতার আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টা চালায়। মুমূর্ষ অবস্থায় রুনা আকতারকে উদ্বার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হলে ও রুনা বাকরুদ্ব ও মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

এ ব্যাপারে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের মাতা নয়ন বেগম বলেন, আমার কন্যা রুনা আকতারকে শ্লীলতহানী করার অপমানে আত্মহত্যা করার প্রচেষ্টা করে । পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যা করার সময়ে দেখে ফেলায় রুনাকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্বার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পর রুনা আকতার প্রাণে বেচেঁ থাকলে ও বাকরুদ্ব হয়ে হয়ে পড়ে। গত ৬ মাস ধরে আমার মেয়ে রুনা আকতার মুত্যুর সাথে যুদ্ব করে আজ বুধবার ভোরে মারা যায়। স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের মাতা নয়ন বেগম তার মেয়েকে যে সব বখাটে যুবকেরা লাঞ্চিত করেছে সেই সব বখাটে যুবকদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।

ঘটনার পর ৬মাস ধরে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতার মৃত্যর সাথে যুদ্ব করে মারা গেলে ও ঘটনার সাথে জড়িতরা কাহাকে ও গ্রেফতার না করায় স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের মাতা নয়ন বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করেন । ঘটনার ব্যাপারে রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্রাহ বলেন, এই ঘটনার ব্যাপারে স্কুল ছাত্রী রুনা আকতারের পিতা আবদুল মন্নান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পি, বি, আই) চট্টগ্রাম কে দায়িত্ব প্রদান করেন আদালত । পুলিশ ব্যুরো অব ইনবেস্টিগেশন (পি, বি, আই) চট্টগ্রাম ঘটনার এর সাব ইনেস্পক্টর মোহাম্মদ কামাল আব্বাস মামলাটি তদন্ত করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন্ দাখিল করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*