রাউজানে ব্যাবসায়ির চার লাখ টাকা ছিনতাই

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা : 

রাউজানে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ীকে আহত করে নগদ তিন লাখ দশ হাজার টাকা, মোবাইলের রিচার্জ কার্ড, মোবাইল সেট, মোবাইল কোম্পানীর ডিভাইসসহ প্রায় চারলাখ টাকার জিনিসপত্র ছিনতাই করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। 

এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার (রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) মামলা দায়েরের জন্য এজাহার প্রস্তুত করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় সম্পৃক্ততা থাকার অপরাধে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ জনতা দুইজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। 

ছিনতাইয়ের শিকার ওই ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের মোবারক আলী ফকিরের বাড়ির মো. সামশুল আলমের ছেলে জহুরুল আলম (২৮)। তিনি চিকদাইর ইউনিয়নস্থ আজিজিয়া স্কুলের পাশে শাহা আকবরিয়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

মামলা দায়েরের জন্য প্রস্তুত করা এজাহারে জহুরুল আলম অভিযোগ করেছেন ‘আমি বুধবার দিবাগত রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে আজিজিয়া স্কুলের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে জহিদি পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে পৌঁছলে পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার মৃত সমশু মিয়ার ছেলে মো. মনজু (৩০), একই এলাকার আব্দুল ছালামের ছেলে মো. রিজুয়ান (৩৫) ও চিকদাইর লুদি গোমস্তার বাড়ির মোহাম্মদ রফিকের ছেলে (২৪)সহ ৪-৫ জন আমার চোখে টর্চলাইটের আলো ফেলে পথরোধ করে। এরপর তারা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে জখম করে আমার হাতে থাকা শপিং ব্যাগটি কেড়ে নেয়। ওই শপিং ব্যাগে বিকাশের নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর মোবাইল রিচার্জ কার্ড, ৫টি মোবাইল, রবি কোম্পানীর ১টি ডিভাইসসহ বিভিন্ন মূল্যেমান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।  সব মিলিয়ে ছিনিয়ে নেয়া বিভিন্ন জিনিসপত্রের মূল্যে প্রায় চার লাখ টাকা।’ ঘটনার সময় ধস্তাধস্তিতে মূল আসামী মনজুর শীতের পোষাকটি রেখে পালিয়ে যায়। ওই পোষকটি ব্যবসায়ী জহুরুল আলম স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে প্রমাণ হিসেবে হস্তান্তর করেছে।  

এ প্রসঙ্গে চিকদাইর ইউপি চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার ইউপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন ‘ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ও এলাকার মেম্বার মো. হানিফ ঘটনাস্থলে পৌঁছি। পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে থানার এ.এস.আই তরুন চাকমা নামের এক অফিসার ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিমের চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য অভিযান চালায়। চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরী আরো বলেন ‘রাতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিকদাইর ৬নম্বর ওয়ার্ডের আবু তাহেরের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী জানে আলমকে (২৮) পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া ছিনতাইয়ের শিকার জহুরুল আলমের তথ্যর ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় চিকদাইর লুদি গোমস্তার বাড়ির মোহাম্মদ রফিকের ছেলে (২৪) বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করা হয়। সন্ধ্যায় তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য দুইজন পলাতক রয়েছে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী থানার এ.এস.আই তরুন চাকমা বৃহস্পতিবার রাতে বলেন ‘ভিকটিম বৃহস্পতিবার থানায় এসেছেন। তারা মামলা দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে। তবে ওই ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী জানে আলম নামের একজনকে রাতেই আমাদের (পুলিশের) হাতে তুলে দেন। আটক যুবকটি ওই ঘটনায় জড়িত আছে কিনা যাচাই করা হচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন। এলাকার অনেকে বলেছেন, ছিনতাইকারী ওই তিনজন ছাড়াও তাদের সঙ্গী ইয়াবা ব্যবসায়ী আরো ২ জন মিলে এলাকাকে অশান্ত করে তোলেছে। এরা হলো, জানে আলম, মাহাবুল আলম, মো. খোকন, মো. মঞ্জু। ছিনতাইকারী এবং এসব চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে না পারলে এ এলাকার মানুষ অশান্তিতে ভূগবে এবং এলাকার উঠতি যুবকরা আরো ব্যাপক আকারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়বে।  

রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্রাহ গতকাল ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার সময়ে বলেন ঘটনার ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*