রাউজানের নশরত বাদাশার দিঘিতে অতিথি পাখীর কোলাহল

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা : 

প্রতি বৎসর শীত আসার সাথে সাথে নসরত বাদশার দিঘিতে অতিথি পাখী আসতে শুরু করে। এবৎসর ও শীত আসার সাথে সাথে দিঘিতে অতিথি পাখী আসতে শুরু করে। শীতের তীব্রতা যতই বেশী বাড়ছে প্রতিদিন অতিথি পাখীর আগমন বেশী হচ্ছে । নসরত বাদশার দিঘিতে অতিথি পাখীর কিচিঁর মিচির শব্দেএলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে । নসরত বাদশার দিঘি দেখে দর্শনার্থী ও এলাকার বাসিন্দ্বাদের মধ্যে মোগল শাসনের কথা স্মরনীয় হয়ে উঠে । 

নসরত বাদশার দিঘি ছাড়া ও রাউজানের কদলপুর লস্কর উজির দিঘি, পশ্চিম গুজরার বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমি চিকদাইর ইউনিয়ন ও বিনাজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ফসলী জমিতে শীতের মৌসুমে অতিথি পাখীর ব্যাপক বিচরন দেখা যায় সরেজমিনে পরিদর্শন কালে । 

রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি রাউজানে কোন অতিথি পাখী ও বন্য প্রাণী শিকার করা নিষিদ্ব করায় রাউজান একন অতিথি পাখীর অভরায়ন্য এলাকা হিসাবে গড়ে উঠেছে । 

রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা এলাকায় সুলতান নশরত বাদশার দিঘি। সুলতান নসরত বাদশার দিঘির পাড়ের পাশ দিয়ে ইছাপুর সড়ক। দিঘির পশ্চিম পাশে হজরত মুফতি ছমিউদ্দিন শাহ  ও হজরত আদল শাহার মাজার পুর্ব পাড়ে হজরত কানু মিয়াজির মাজার । ২৫ একর ২০ শতক আয়তনের নসরতা বাদশার দিঘির চার পাড়ে এলাকার বাসিন্দ্বাদের কবরস্থান। দক্ষিন পাড়ে সুবিশাল পাকা ঘাট পুর্ব পাড়ে দুটি পকা ঘাট, দিঘির পাড়ে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সারি সারি বৃক্ষ । দিঘির দক্ষিন পাড়ে বিশাল পাকা ঘাটের ছাদে নির্মান করা হয়েছে ব্যবসায়ী জামাল গোলতাজ আশরফ সুন্নিয়া ফেরকানীয় নরানী মার্দ্রাসা । 

২৭ ব্যক্তির মালিকানাধীন নসরত বাদশার দিঘিতে দিঘির মালিকেরা মিলে মাছ চাষ করে। মাছ চাষ করার পর মাছ বড় হলে দিঘির মাচ প্রকাশ্যে নিলাম ডেকে মৎস ব্যবসায়ীদের মাছ বিক্রয় করে। মৎস চাষীরা নিলঅমে মাছ ক্রয় করে দিঘি থেকে জাল , বড়শী দিয়ে ও দিঘির পানি সেচের মাধ্যমে বাইরে ফেলে বিপুল পরিমান মাছ শিকার করে মাছ বিক্রয় করে বিপুল পরিমান টাকা আয় করে। নসরত বাদশার দিঘিতে বড় বড় সাইজের রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, চিতল, সইল, সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে । গত কয়েক বৎসর পুর্বে একবার নসরত বাদশার দিঘির মাছ ১৫ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রয় করে। পরবর্তী পুনরায় মাছের চাষ করার পর দিঘির মাছ  গহিরার সাইদুল আলম মনসুরের কাছে  বিক্রয় করে ৯ লাখ টাকা দিয়ে । নসরত বাদশা দিঘির ২৭ জন মালিক রয়েছে । তাদের মধ্যে মোঃ নুর খান রাউজান বার্তাকে বলেন, আগামী ১৩ জানুয়ারী সোমবার সকালে নসরত বাদশার দিঘির মাছ নিলামে বিক্রয় করা হবে । 

রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেনায়েদ কবির সোহাগ রাউজান বার্তাকে বলেন রাউজান উপজেলাকে অতিথি পাখীর অভয়ারন্য এলাকা । অতিথি পাখীর সুরক্ষায় রাউজান উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা নজরদারীতে রেখেছে । এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের অতিথি পাখীর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*