রাউজানে খালের বাঁধ দিয়ে মাটি ও বালি উত্তোলন, অবৈধ বাঁধ অপসারণ করলেন ইউএনও

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা: 

 রাউজানে দুটি স্থানে সর্তাখালের মাঝখানে বাঁধ দেওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাঁধ অপসারণ ও বালু উত্তোলনের মেশিনসহ পাইপ নষ্ট করা হয়েছে। 

বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের নতুন হাট ও চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের সমানে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করেন  রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ।

এসময় নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকায় সর্তাখালে বাঁধ দিয়ে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত মো. আলী (৪৫) নামে এক শ্রমিককে আটক করা হয়। 

তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার উত্তর মঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা মৃত নজির আহমেদের ছেলে। এসময় নতুন হাট এলাকায় বাঁধ অপসারণ ও চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তৈরি করা বাঁধ অপসারণ এবং বালু উত্তোলনের পাইপ কেটে ফেলা হয়। পরে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত মেশিনটি পানির স্রোতে ভেসে দিয়ে নষ্ট করা হয়।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, খালে বাঁধ দিয়ে পানির গতিপথ বন্ধ করা, বিনাঅনুমতিতে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। খালে বাঁধ দেওয়ায় বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢল নেমে নোয়াজিষপুর ও চিকদাইর ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়েছে। তাই বাঁধ অপসারণ করেছি। খালের বাঁধ সৃষ্টিকারী, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনকারীদের কোন ছাড় নেই। 

অভিযানে শ্রমিক ছাড়া কাউকে পায়নি। খালে বাঁধ ও মাটি কাটার মূল হোতা কে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা বের করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত অভিযুক্তকে ধরার জন্যই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত) আটক শ্রমিককে ছাড়ানোর জন্য কেউ আসেনি।

উল্লেখ্য, নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন এম.সরোয়ার্দী সিকদার ও চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রিয়তোষ চৌধুরীর মৌখিক অনুমতিক্রমে গহিরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সায়েদুল রহমান ওরফে বালু মনছুর সর্তা খালে বাঁধ নির্মাণ করে রাস্তা তৈরি করে মাটি বিক্রি করে আসছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত সায়েদুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিচিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*