হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে ডিম সংগ্রহ

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা:

প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে। হালদা নদীতে এবার মা মাছ যে পরিমান  ডিম ছেড়েছে তা গত কয়েক বৎসরের চেয়ে বেশী বলে জানা গেছে।

রাউজান হাটাহাজারীর ৬শত ১৬ জন ডিম সংগ্রহকারী ২শত ৮০টি নৌকা নিয়ে হালদা নদীতে জাল নিয়ে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার জন্য প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে জাল দিয়ে নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার জন্য নদীতে নেমে পড়ে। 

 ২২ মে শুক্রবার সকাল সাড়ে সতাটার সময় থেকে হালদা নদীর নাপিতের ঘাট, পশ্চিম আবুর খীল, রামদাশ হাট, আমতোয়া, দক্ষিন মার্দ্রাসা ও মার্দ্রাসা , গড়দুয়ারা, মাছুয়া ঘোনা, আিিজমের ঘাট, মগদাই, কাগতিয়া, কাসেম নগর, পশ্চিম বিনাজুরী, সিপাহির ঘাট, দক্ষিন গহিরা, পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা, উরকির চর এলাকায় হালদা নদী থেকে শত শত ডিম ষংগ্রহককারী নৌকা ও জাল দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে। 

ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর হালদা নদীর তীরে খনন করা মাটির কুয়ায় ও রাউজানের গহিরা মোবারক খীল, পশ্চিম গহিরা, হাটহাজারীর মদুনাঘাট, মাছুয়াঘোনা, মার্দ্রাসা এলঅকায় মৎস মন্ত্রনালয়ের নির্মানাধীন হ্যচাারী গুলেতে মা মাছের ডিম থেকে রেনু ফুটানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন । প্রতি বৎসর চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস পযন্ত সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে । 

এ বৎসর চৈত্র ও বৈশাখ মাস চলে গেলে ও বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে ও হালদা নদীতে মা মাছ ডিম না ছাড়ায় ডিম সংগ্রহকারীরা হতাশ হয়ে পড়ে। 

 ২২ মে ৮ জ্যৈষ্ট শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ে হালদা নদীতে মা মাছ ছাড়লে ডিম সংগ্রহকারীরা আনন্দে উৎসবের মধ্যে দিয়ে হালদা নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেন । রাউজানের পশ্চিম গহিরা অংকুরী ঘোনা এলাকার ডিম মিলন বড়ুয়া ৪টি নৌকা নিয়ে হালদা নদীর নাপিতের গাঠ এলাকায় সকাল সাড়ে সাতটার সময়ে ৫ বালতি মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেন বলে ডিম সংগ্রকারী মিলন বড়ুয়া জানান । 

রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট জলদাশ পাড়া এলাকার ডিম সংগ্রহকারী খোকন জলদাশ বলেন তিনি ৪টি নৈৗকা নিয়ে নদী থেকে ৪ বালতি ডিম সংগ্রহ করেন । রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৭টি নৈাকা নিয়ে হালদা নদী থেকে ১০ বালতি মা মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন । 

হালদা নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার সংবাদ পেয়ে ২২ মে শুক্রবার রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস অফিসার ফারহানা লাভলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক হালদা গবেষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া, রাউজান উপজেলা মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর, হাটহাজারী উপজেলা মৎস অফিসার হালদা নদীতে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করার দৃশ্য পরির্দশন করেন। 

রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, হালদা নদীতে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যন্ত্রিক নৌযান চলাচল বন্দ্ব, অবৈধ ভাবে মাছ শিকার বন্দ্ব করায় হালদা নদীতে মা মাছ এবার প্রচুর পরিমান ডিম ছাড়ে। 

হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদা নদীর পানি দুষন থেকে মুক্ত থাকায় হালদা নদীতে এবার মা মাছ ডিম ছেড়েছে তা গত কয়েক বৎসরের চেয়ে বেশী। 

রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর বলেন, হালদা নদীতে এবার আশানরুপ পরিমান মা মাছ ডিমে ছেড়েছে । হালদা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর রাউজানের দুটি ও হাটহাজারীর তিনটি হ্যাচারী ডিম ফুটানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে । হালদা নদী থেতে ২শত ৮০টি নৌকা নিয়ে ৬শত ১৬ জন ডিম সংগ্রহকারীরা দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সময়ে প্রতি নৌকা ৫বালতি করে ১ হাজার ৪শত বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে বলে জানান উপজেলা মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর। 

দুপুর বারটার পর ও নদীতে ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করায় কি পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করায় ডিম সংগ্রহ করার পরিমাণ আরো বেশী হওয়ার আশা করছেন রাউজান উপজেলা মৎস অফিসার পিযুষ প্রভাকর । হালদা নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম থেকে রেনু ফুটানোর পর রেনু বিক্রয় করার হবে । চট্টগ্রাম সহ সারা দেশের মৎস হ্যচারীর মালিক, মাছ চাষীরা ডিম সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে রেনু ক্রয় করে নিয়ে গিয়ে পুকুর, জলাশয়, মৎস প্রকল্পে হালদার মা মাছের রেনু ফেলে মাছ চাষ করে । হালদার রেনু দিয়ে মাছের চাষ করে বিপুল পরিমান টাকা আয় করেন মৎস হ্যচারীর মালিক ও মাছ চাষীরা । হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*