রাউজানে মাস্টার দা সূর্য সেনের ৮৭ তম প্রয়াণ দিবস পালিত

 

শফিউল আলম, রাউজানবার্তা :

১২ জানুয়ারী মঙ্গরবার ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৭তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে।

১২ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাঁর জন্মস্থান রাউজান উপজেলা সদর মুন্সিরঘাটায় স্থাপিত মাস্টার দা সূর্যসেনের ভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাউজান উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, সূর্যসেন স্মৃতি পাঠাগার, রাউজান সরকারী বিশ্ববিদ্যাল শিক্ষক মন্ডলী, সূর্যসেন স্মৃতি সংসদ ও সামাজিক সংগঠন সমুহ আলাদা আলাদা ভাবে মহান এই সেনানীর ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া রাউজান প্রেসক্লাব, সেন্ট্রাল বয়েজ অব রাউজান সহ নানান সমাজিক সংগঠনের পক্ষ হতে নানান কর্মসূচী পালন করে।

১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারী মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামী বাঙ্গালি বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন ও তাঁর সহযোগী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল।

এই উপলক্ষে সূর্যসেন স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত আলোচনা সভা রাউজান কলেজ সম্মূখস্থ সূর্যসেন চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

সূর্যসেন স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শ্যামল কুমার পালিতের সভাপতিত্বে ও পৌরসভার ২য় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, শাহা আলম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ বশির উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জানে আলম জনি, আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দিদারুল আলম, বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, অধ্যাপক অর্পন ব্যানাজি, আলহাজ¦ নুরুল আমিন, তছলিম উদ্দিন, মুছা আলম খান চৌধুরী, আবদুল লতিফ, যুবলীগ নেতা তপন দে, আরিফুল হক চৌধুরী, আবু ছালেক, ছাবের হোসেন, মোহাম্মদ আসাদ,

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক নাছির উদ্দিন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসিফ, বেলাল হোসেন, রাউজান কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আরমান সিকদার, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহামুদ প্রমূখ। উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার করা হয়েছিল বিপ্লবীদের। এই ট্রাইব্যুনালের সভাপতি ছিলেন ডব্লিও ম্যাকশ। রায়বাহাদুর রাজকুমার ঘোষ ও খন্দকার আলী তৈয়ব ট্রাইব্যুনালের সদস্য ছিলেন।

রায়ের আদেশে সূর্যসেন ও তারকেশ্বরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড ও কল্পনা দত্তকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল। সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম ভাবে অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুরী দিয়ে তাঁর দাঁত ভেঙে দেয় এবং তাঁর হাঁড় ও ভেঙে দেয়। হাতুরী দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে অত্যাচার করা হয়। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু রীতি অনুযায়ী পোড়ানোও হয়নি।

ফাঁসীর পর লাশ দুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে ব্রিটিশ ক্রুজার ‘দ্যা রিনাউন’ এ তুলে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের সংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেয়া হয়।

আরো উল্লেখ তাকে যে, মাস্টারদা ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের এক অস্বচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দুই ছেলের নাম সূর্য ও কমল। চার মেয়ের নাম বরদাসুন্দরী, সাবিত্রী, ভানুমতী ও প্রমিলা। শৈশবে পিতা মাতাকে হারানো সূর্য সেন কাকা গৌরমনি সেনের কাছে মানুষ হয়েছেন।

মাস্টারদা নামে সর্বাধিক পরিচিত ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এই বিপ্লবীর প্রকৃত নাম সূর্যকুমার সেন। তার ডাক নাম ছিলেন কালু। তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নিজ জীবন বলীদান করেন।

স্মৃতি রক্ষায় রাউজানের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর উদ্যোগে জন্মভূমি মাস্টার দা সূর্যসেনের ভাস্কর্য স্থাপন ও মাস্টার দা স্মৃতি পাঠাগারসহ মাস্টার দা সূর্যসেন চত্বর স্থাপন করেন। এছাড়া পৈত্রিক ভিটায় একটি হাসপাতাল করা হয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *